চাল ব'ন্ধ ৩ মাস ধরে টিসিবির নিন্মমানের বাধ্যতামূলক পণ্যে ক্ষু'ব্ধ সুবিধাভো'গীরা
চাল ব'ন্ধ ৩ মাস ধরে টিসিবির নিন্মমানের বাধ্যতামূলক পণ্যে ক্ষু'ব্ধ
এম মনির চৌধুরী রানা
তিলক দাশ (৭৫) টিসিভির নিয়মিত গ্রাহক তিনি অভিযোগ করেন আমাদের মত গরীব অসহায়দের একমাত্র আশ্বাস টিসিভি ফ্যামেলি কার্ড। তিন মাস ধরে বন্ধ টিসিভির চাল, বন্ধ হওয়ার আগে কয়েকবার দিয়েছিল খুবই নিম্ন মানের চাল যা খাওয়ার উপযোগী নয়। যাদের গরু আছে এই চাল ঝাউ করে গরুকে খাওয়াছিল। নিম্ন মানের
চাল দেয়ার পর গত তিন মাস ধরে একে বারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চাল। এই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে আমরা তেল,চিনি মুসার ডলা কম দামে ক্রয় করতে পারি কিন্তু চাল তো বন্ধ, তেলের অবস্থা যাতা কার কাছে অভিযোগ দেবো। কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেয়ার কথা থাকলেও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্যের মান নিয়ে গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকদের চাল, ডাল ও তেলের সাথে গুঁড়া সাবান, বল সাবান ও গায়ে দেওয়ার সাবান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, এসব পণ্যের বেশির ভাগই অত্যন্ত নিন্মমানের ও ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে একপর্যায়ে এসব পণ্য নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পরেছেন চট্টগ্রাম জেলা ও নগর এলাকার প্রায় শতাধিক ডিলার। নগরীর বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডে দেওয়া ‘১২৫ গ্রামের চাকা সাবানে ঘ্রাণ ভালো হলেও ফেনা হয় না, কাপড়ও পরিস্কার হয় না। গায়ে দেয়ার ১০০ গ্রাম মেরিল স্যাফরান সিরাম সোপ বার তা ও একই অবস্থা।
গৃহিণী শিরিন আক্তার বলেন চাকা বল সাবান দিয়ে হাঁড়িপাতিলের কালি ও থালাবাসনের ময়লা পর্যন্ত পরিস্কার হয় না। বরং এটি ব্যবহারে হাতের চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টিসিবির সরবরাহ করা ‘ফ্যামিলি’ পাম অয়েল নিয়ে ও অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ গ্রাহকরা। তাদের দাবি, বেশিদিন ঘরে রাখলে তেল জমাট বেঁধে যায়,রান্না করলে শরীরে বিভিন্ন রোগ হয় বিশেষ করে হার্টের, রান্নার পর সবজির ওপর চর্বির মতো আস্তর পরে এবং তেল ভেসে ওঠে। একই অভিযোগ করেছেন, উপজেলা ও পৌরসভার অধিকাংশ সুবিধাভোগীরা। সূত্রমতে, প্রায় গত ছয় মাস আগে টিসিবির পণ্যের তালিকায় জামাকাপড় ধোয়ার
গুঁড়া সাবান, গায়ে দেওয়া ও থালাবাসন পরিস্কারের সাবান যুক্ত হয়েছে। নির্ধারিত প্যাকেজে চাল, ডাল, তেল ও চিনির সঙ্গে এসব পণ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা পরিশোধের পর পণ্য নিতে হয় ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকের। গত ১২ জুলাইয়ের এক চিঠিতে টিসিবি জানায়, গ্রাহকদের সাবান বা গুঁড়া সাবান নিতে বাধ্য করা যাবে না। কোনো পণ্য অবিক্রীত থাকলে পরের মাসে ব্যক্তি বা
প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কয়েকজন ডিলাররা বলেছেন, বাজারে অপরিচিত নিন্মমানের এসব পণ্য যেখানে ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকরাই নিতে চান না, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কীভাবে বিক্রি করব আমরা। টিসিবির নিয়ম হচ্ছে তাদের পণ্য বাহিরে বিক্রি করা যাবে না। তারপরেও তারা এ ধরনের নির্দেশ দেয় কী করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম নগরীর এক ডিলার বলেন, নিন্মমানের এসব পণ্যের সঙ্গে বাজারে প্রচলিত পণ্যের দামে খুব একটা পার্থক্য নেই। যে কারণে বিক্রিতো দূরের কথা কারও কাছে এসব পণ্যের কথা বলাও যাচ্ছেনা। নতুন এ নির্দেশনার পর হাজার হাজার টাকার পণ্য পরে রয়েছে ডিলারদের দোকানে। টিসিবিও এগুলো ফেরত নেবে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এসব পণ্যের গায়ে কোনো বিক্রয়মূল্যও লেখা নেই।
অপরদিকে প্রায় দুই মাস ধরে গ্রাহকদের চাল দিচ্ছে না টিসিবি। তবে নিয়মিত আসছে পাম অয়েল, ডিটারজেন্ট পাউডার ও বল সাবান। ডিলারদের অভিযোগ, এসব না নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মেসেজও দেওয়া হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স